১৫ নভেম্বর ২০২১আজ ফজলুল হক আমিনীর ৭৭তম জন্ম দিন

বিএনএসঃ

ফজলুল হক আমিনী (১৫ নভেম্বর ১৯৪৫ - ১২ ডিসেম্বর ২০১২) ছিলেন বাংলাদেশের একজন ইসলামী চিন্তাবিদ, ইসলামী আইনজ্ঞ (মুফতি) ও রাজনীতিবিদ। তিনি ২০০১ সালে অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চার দলীয় জোটের প্রার্থী হিসেবে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তিনি কওমি মাদরাসা বোর্ডেও দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়া তিনি বাংলাদেশের অন্যতম দেওবন্দি মাদ্রাসা জামিয়া কুরআনিয়া আরাবিয়া লালবাগ অধ্যক্ষ ছিলেন। [১]

আমিনী ১৫ নভেম্বর ১৯৪৫ সালে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার আমীনপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। নিজ জেলার জামেয়া ইউনুসিয়া মাদ্রাসায় প্রাথমিক ও মুন্সিগঞ্জ জেলার মোস্তফাগঞ্জ মাদরাসায় ৩ বছর পড়ালেখা করে ১৯৬১ সালে জামিয়া কুরআনিয়া আরাবিয়া লালবাগ মাদ্রাসায় ভর্তি হন ও দাওরায়ে হাদীসে সনদ অর্জন করেন। ১৯৬৯ সালে পাকিস্তানের করাচির নিউ টাউন মাদরাসায় ভর্তি হন ও এক বছর উলুমুল হাদীসের উপর উচ্চ শিক্ষা লাভ করেন।[২]

১৯৭০ সালে আমিনী ঢাকার কামরাঙ্গীরচরের মাদরাসা-ই-নূরিয়া তে শিক্ষকতার মাধ্যমে তার কর্মজীবন শুরু করেন। ১৯৭৫ সালে জামিয়া কুরআনিয়া আরাবিয়া লালবাগ যোগদান করেন ও পরবর্তীতে ১৯৮৭ সালে তৎকালীন অধ্যক্ষ মোহাম্মদ উল্লাহ হাফেজ্জী হুজুরের মুত্যুর পর প্রতিষ্ঠানটির অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। এছাড়াও তিনি বড় কাটারা আশরাফুল উলুম মাদরাসাসহ আরও বেশ কিছু ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের পরিচালক ও তত্ত্বাবধায়ক ছিলেন।[৩]

আমিনী ১৯৮০-এর দশকে খেলাফত আন্দোলন নামে একটি ইসলামী দলের মাধ্যমে রাজনীতিতে প্রবেশ করেন। পরে বাংলাদেশের রাজনৈতিক দল ইসলামী ঐক্যজোটের চেয়ারম্যান ও তেহরিক-ই-খাতমে নবুওয়াত নামের একটি দলের দায়িত্ব পালন করেন। ২০০১ সালে অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চার দলীয় জোটের প্রার্থী হিসেবে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তবে ২০০৮ সালে নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে একই আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে জাতীয় পার্টির প্রার্থী জিয়াউল হক মৃধার কাছে পরাজিত হন।[৪]

আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন জোট ২০০৯ সালে সরকার গঠনের পর ২০১১ সাল থেকে প্রায় ২৩ মাস আমিনীকে গৃহবন্দি করে রাখার অভিযোগ রয়েছে।[৩]

২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর ২০১১ সালে নারী উন্নয়ন নীতিমালা,[৫] ২০১২ সালে শিক্ষা নীতি[৬] প্রণয়ন করে। ২০০১ সালে বাংলাদেশের হাইকোর্ট ফতোয়ার নামে বিচার-বর্হিভূত শাস্তি অবৈধ ও তা বন্ধে নির্দেশ প্রদান করে।[৭] কয়েকটি ইসলামী দলের নেতাদের সমন্বয়ে গঠিত ‘ইসলামী আইন বাস্তবায়ন কমিটি’ অন্যতম সমন্বয়ক হিসেবে আমিনী নারী উন্নয়ন নীতিমালা, শিক্ষা নীতি ও ফতোয়ার বিরুদ্ধে দেওয়া হইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে অবস্থান নেন এবং হরতাল পালন করেন।[৮] তিনি নারী উন্নয়নের এই নীতিমালা ও শিক্ষা নীতিমালার মাধ্যে নারীদের উত্তরাধিকরাসূত্রে পাওয়া সম্পত্তির উপর বেশি অধিকার, কর্মসংস্থান এবং শিক্ষা অধিকার প্রতিষ্ঠাকে ইসলাম বিরোধী বলে মত দেন।[৯][১০] কয়েকজন ইসলামি পণ্ডিত এগুলোর কোনটিই ইসলাম বিরোধী নয় বলে মত দেন ও আমিনী কোরআনের কথাকে অন্যভাবে ব্যাখ্যা করে রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিল করছেন বলে সমালোচনা করেন।